ছোট ম্যাজেলানিক ক্লাউড
৯৮০ ভিউ

ছোট ম্যাজেলানিক ক্লাউড

আব্দুল্যাহ আদিল মাহমুদ
আব্দুল্যাহ আদিল মাহমুদ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮
মহাকাশ ৪ মিনিট

ছোট ম্যাজেলানিক ক্লাউড (SMC) গ্যালাক্সিটিকে সবচেয়ে সহজে চোখে পড়ে দক্ষিণ গোলার্ধের আকাশ থেকে। এটি এর বড় ভাই লার্জ ম্যাজেলানিক ক্লাউড থেকেও দক্ষিণে অবস্থিত। দুজনেই আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির বাইরে অবস্থিত হলেও দুজনেই মিল্কিওয়ের স্যাটেলাইট গ্যালাক্সি অর্থাৎ, এরা মিল্কিওয়েকে প্রদক্ষিণ করছে। ১৭ ডিগ্রি উত্তর গোলার্ধ থেকে এদের কোনোটাকেই চোখে পড়ে না। অর্থাৎ, উত্তর আমেরিকা,উত্তর আফ্রিকা, সমগ্র ইউরোপ এবং এশিয়ার উল্লেখযোগ্য অংশ থেকে (ভারতের দক্ষিণ অংশ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ছাড়া) এদেরকে দেখা যাবে না। শরতের শেষ এবং শীতের শুরুতে (অক্টোবরে শেষ রাতে, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে রাতের প্রথম প্রহরে এবং জানুয়ারিতে সন্ধ্যার পরপরই) ছোট ম্যাজেলানিক ক্লাউডকে সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যায়। যখন ইংরেজি W বা M (অবস্থানভেদে) অক্ষরের মত আকৃতির ক্যাসিওপিয়া তারামণ্ডলী রাতের উত্তর আকাশের চূড়ায় উঠবে তখনই দক্ষিণ আকাশের চূড়ায় দেখা যাবে এসএমসিকে।

দক্ষিণ খ-মেরু (Celestial pole) থেকে এটি ২০ ডিগ্রি কৌণিক দূরত্বে এবং টিউক্যানা তারামণ্ডলীতে এর অবস্থান। একে খুঁজে পেতে তোমাকে সহায়তা করবে রাতের আকাশের দশম উজ্জ্বল তারকা আখেরনার (Acherner)। আকাশ নদীর সমার্থক তারামণ্ডলী এরিডেনাসে অবস্থিত এই তারকাটি থেকে ১৫ ডিগ্রি নিচে এসএমসি এর অবস্থান। এঁকেবেঁকে চলা আকাশনদী তারামণ্ডলীটি আদম সুরতের পায়ের নক্ষত্র রাইজেলের নিকট থেকে শুরু হয়ে আখেরনার (নদীমুখ) তারকায় গিয়ে শেষ হয়েছে। উজ্জ্বলতা এবং আকার- দুই ক্ষেত্রেই এসএমসি বড়ভাই এলএমসি (লার্জ ম্যাজেলানিক ক্লাউড) এর চেয়ে অনেক পিছিয়ে। প্রায় আড়াই বাই ৫ ডিগ্রি অঞ্চল জুড়ে এর বিস্তার। ওভারঅল উজ্জ্বলতা +২। প্রায় ১৩ বর্গ ডিগ্রি অঞ্চল জুড়ে এর দীপ্তি ছড়িয়ে থাকায় এলএমসির চেয়ে একে খুঁজে পাওয়া কঠিন, আর প্রয়োজন হয় খুব অন্ধকার আকাশের।


ইতিহাস ও রূপকথাঃ

এটি অনুজ্জ্বল এবং দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত হবার সুবাদে প্রাচীন ইউরোপের রূপকথার বেড়াজাল থেকে রক্ষা পেয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার রূপকথায় এর স্থান আছে। পলিনেশীয়দের কাছে দুই ম্যাজেলানিক ক্লাউডই চলাচলের ক্ষেত্রে ভালো সহায়ক ছিল। নিউজিল্যান্ডে এদেরকে ঝড়ের পূর্বাভাস মনে করা হত। ৬ষ্ঠ শতকের শুরুর দিকে ফার্ডিন্যান্ড ম্যাজেলানের গবেষণার সূত্র ধরে এদের সাথে ম্যাজেলান নামের সংযোগ ঘটে। বেয়ারের ইউর‍্যানোমেট্রিয়াতে এদেরকে যথাক্রমে Ubecula Major ও Nubecula Minor বলা হয়েছিল। ১৭৫৬ সালে ফরাসী জ্যোতির্বিদ লেকেইলি তাঁর তারা মানচিত্রে এদেরকে বর্তমান নাম দেন।


বৈশিষ্ট্যঃ

এলএমসির পরে এটি মিল্কিওয়ের চতুর্থ নিকটবর্তী গ্যালাক্সি। সবচেয়ে ভালো হিসাব অনুযায়ী এটি ২ লাখ ১০ হাজার আলোকবর্ষ দূরে তথা এলএমসির চেয়ে ৩০ শতাংশ বেশি দূরে অবস্থিত। অনিয়তাকার গ্যালাক্সিটি মিল্কিওয়ের টানের কারণের দণ্ডযুক্ত সর্পিল কাঠামো প্রদর্শন করে। সবচেয়ে প্রসারিত অঞ্চলে এর ব্যাস ১৫ থেকে ১৭ হাজার আলোকবর্ষ। এতে তারকার সংখ্যা মাত্র কয়েক কোটি, যা এলএমসি বা মিল্কিওয়ের চেয়ে অনেক কম।


জুলাই-আগস্ট ২০১৮।বর্ষ ৪।সংখ্যা ২

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগইন করুন

আরও পড়ুন

ব্ল্যাকহোলের গভীরে পর্ব-১
মহাকাশ

ব্ল্যাকহোলের গভীরে পর্ব-১

ব্ল্যাকহোল কী জিনিস? ব্ল্যাকহোলের জন্ম হয় কিভাবে? ব্ল্যাকহোলের সাথে অভিকর্ষের কী সম্পর্ক? আইনস্টাইনে...

১৭ অক্টোবর ২০১৫ ৮ মিনিট
ধূমকেতুর গল্প
মহাকাশ

ধূমকেতুর গল্প

ধূমকেতুর জন্ম পরিচয় কি? তার বাড়িই বা কোথায়? দাঁড়াও দাঁড়াও এতো উতলা হওয়া কিছু নেই। জানো তো, তাড়াহুড়া...

১৭ অক্টোবর ২০১৮ ২ মিনিট
ব্ল্যাকহোলের গভীরে (পর্ব-২:  ব্ল্যাকহোলের জন্মগ্রহণ)
মহাকাশ

ব্ল্যাকহোলের গভীরে (পর্ব-২: ব্ল্যাকহোলের জন্মগ্রহণ)

গত সংখ্যায় আমরা ব্ল্যাকহোলের সাথে প্রাথমিক পরিচিতি সেরেছিলাম। এবার আমরা দেখবো, কিভাবে জন্ম নেয় এই দা...

১২ অক্টোবর ২০১৫ ৬ মিনিট
মহাশূন্যে বসবাস (পর্ব-৪)
মহাকাশ

মহাশূন্যে বসবাস (পর্ব-৪)

বিয়ের কথা শুনলেই দাওয়াত খাওয়ার জন্য জিভে জল চলে আসে তাই না? এ যাত্রায় ওসব জল সংবরণ করতে হবে দাদারা!...

১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ ৭ মিনিট