বিজ্ঞান

ডাইনোসর কি বর্তমান মান পৃথিবীতে টিকে থাকতে পারবে?

সোহানুর রহমান সোহান

১ জানুয়ারী ২০২৫
Time Icon  

 ১৫ মিনিট

মনে করুন, একদিন সকাল ৮টায় বাসা থেকে বাজারের উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন। বাসা থেকে খুব কাছেই একটা দোকানে অনেক সুন্দর চা বানায়। তো, হালকা লির দিয়ে রং চা খাচ্ছেন আর হাতে একটা পত্রিকায় চোখ বুলাচ্ছেন। হঠাৎ একটি নিউজের হেডলাইন দেখে আপনার চোখের ভ্রকুঁচকে গেলো। একটু অবাক হয়ে গেলেন আপনি! কী লেখা ছিল নিউজ হেডলাইনে?


“আবারও পৃথিবীতে ফিরে আসছে ডাইনোসর!”


প্রকৃতপক্ষে ২০৫০ সালের মধ্যে ডাইনোসর পৃথিবীতে ফিরে আসবে। হ্যাঁ, আপনি ঠিকই শুনছেন। ৬৮ মিলিয়ন বছর আগের একটি গর্ভবতী টি. রেক্সের ফসিল খুঁজে পাওয়া গেছে। ২০০৫ সালে, নর্থ ক্যারোলিনা স্টেটের একজন জীবাশ্মবিদ (এবং প্রধান গবেষক ও লেখক) ডক্টর মেরি শোয়েটজার, ৬৮-মিলিয়ন বছরের পুরোনো একটি টি-রেক্স ফসিলের ফিমারে মেডুলারি হাড় আবিষ্কার করেন। গবেষকরা নিশ্চিত করেছেন, এই টি-রেক্স মারা যাওয়ার সময় গর্ভবতী ছিল এবং তাঁরা ফসিলটি পর্যবেক্ষণ করে এক ধরনের হাড় আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছে যা শুধু মহিলা প্রাণীদের মধ্যে পাওয়া যায়। গবেষকরা ফসিলের ফিমারে একটি লিঙ্গ-নির্ধারক প্রজনন টিস্যুর উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন; মেডুলারি বোন (MB) যা স্ত্রী পাখিতে শুধু ডিম পাড়ার সময়কালে পাওয়া যায়। এই মেডুলারি বোন টিস্যুতে ডিএনএ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে! নর্থ ক্যারোলিনা স্টেটের জীবাশ্মবিদ এবং প্রধান গবেষক ডক্টর মেরি শোয়েটজার বলেন, ‘সে সময় আমাদের কাছে থাকা সমস্ত প্রমাণ এই টিস্যুটির মেডুলারি হাড়ের দিকে নির্দেশ করে।


এই বিরল ডিএনএ বিজ্ঞানীদের টাইরানোসরাস রেক্স এবং অন্যান্য ডাইনোসর জাতীয় প্রাণী ক্লোনিংয়ের এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে। ২০৫০ সালের মধ্যে ডাইনোসর ক্লোন করা হবে! আর এরই মধ্যে দিয়ে অবশেষে জুরাসিক পার্ক ফিকশন থেকে বাস্তবের মুখোমুখি হয়ে উঠবে। এই ঘটনাটি ২০০৫ সালের কিন্তু প্রকাশ করা হয় মার্চ ২০১৬ তে। তো, ব্যাপারটা আপনার কাছে ইন্টারেস্টিং মনে হতে পারে আবার নাও হতে পারে। কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, আধুনিক পৃথিবীতে ডাইনোসর ফিরে আসলে তাঁরা টিকে থাকতে পারবে কিনা? এরকম একটা চিন্তা-ভাবনার পরীক্ষা (Thought Experiment) করা।


তো, শুরুতে ডাইনোসর যুগের টাইমলাইন একটু মনে করিয়ে দেই...


এখন থেকে প্রায় ৬৫ মিলিয়ন (৬.৫ কোটি) বছর আগে আমাদের অচেনা-অজানা পৃথিবীতে দাপিয়ে বেড়াত সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী। এই সময়কালই হচ্ছে ডাইনোসর প্রজাতির উত্থানপতনের যুগ। এই সময়টাতে উদ্ভিদ জগতেও একটি বিশাল পরিবর্তন এসেছিল! ডাইনোসর প্রজাতিরা পৃথিবীতে রাজত্ব করেছিল ১৬৫ মিলিয়ন বছর (১৬.৫ কোটি বছর) ধরে। এই বিশাল সময়কালকে বলা হয় মেসোজোয়িক মহাযুগ। মেসোজোয়িক মহাযুগকে (২৪৮ থেকে ৬৫ মিলিয়ন বছর পূর্বে) তিনভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।


ডাইনোসর যুগের টাইমলাইন:

    ১. ট্রায়াসিক সময়কাল: ২৪৮ থেকে ২১৩ মিলিয়ন বছর পূর্বে

    ২. জুরাসিক সময়কাল: ২১৩ থেকে ১৪৪ মিলিয়ন বছর পূর্বে

    ৩. ক্রিটেসিয়াস সময়কাল: ১৪৪ থেকে ৬৫ মিলিয়ন বছর পূর্বে


এবার মূল আলোচনায় ফিরে যাই,

আধুনিক পৃথিবীতে ডাইনোসর প্রজাতি বেঁচে থাকতে পারবে কিনা তা বেশ কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে। যেমন- তাপমাত্রা, পর্যাপ্ত খাদ্যের উৎস এবং বায়ুমÐলে অক্সিজেনের পরিমাণ। এসব কারণ ডাইনোসর প্রজাতির টিকে থাকাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে। লক্ষ লক্ষ

বছর পূর্বে (প্রায় ৬৬ মিলিয়ন) ডাইনোসর প্রজাতিরা অনেক উষ্ণ প্রকৃতির জলবায়ুর সাথে বসবাস করত। এক্ষেত্রে আধুনিক পৃথিবীতে তারা বেঁচে থাকতে পারবে কিনা তা নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞের সন্দেহ রয়েছে।

চিত্র-১: পালক আবৃত ভেলোসি র‌্যাপ্টর তুষার আবহাওয়াতেও বেঁচে থাকতে পারে


যদিও নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে, বেশ কিছু ডাইনোসর প্রজাতি শীতল পরিবেশেও (তুষার আবহাওয়াতেও) বেঁচে থাকতে পারে। যেমন- ভেলোসি র‌্যাপ্টর (Velociraptor); এদের শরীর এলোমেলোভাবে পালক দিয়ে আবৃত থাকায়, হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডা আবহাওয়াও এদেরকে দমিয়ে রাখতে পারে না। Apple TV+ এর Prehistoric Planet (২০২২) ডকুমেন্টারিতে এই ভেলোসি র‌্যাপ্টরকে ফিচার হিসেবে রাখা হয়েছে। যেখানে আধুনিক গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্যগুলোর সমন্বয়ে দুর্দান্ত এক অ্যানিমেশনের মাধ্যমে ডকুমেন্টারিটি উপস্থাপন করা হয়েছে।

চিত্র ০২: Jurassic Park: World Domination মুভির একটি স্থিরচিত্র


অপরদিকে,  Jurassic Park: World Domination (2022) মুভিতে দেখানো হয়েছে, কিছু ডাইনোসর প্রজাতি বরফের মধ্যে দিয়ে যাত্রা করছে। এই চলচ্চিত্রকে যদিও একেবারে নির্ভুল বলা যাবে না! তবে বিশেষজ্ঞদের মতামত হলো, ডাইনোসরদের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে শীতল তাপমাত্রা তেমন সমস্যার বিষয় হতে পারে না।


ডাইনোসরদের বেঁচে থাকার জন্য আরেকটি কারণ বিবেচনা করা হয় বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমিত মাত্রার উপস্থিতি। প্রত্নতাত্তিকরা অ্যাম্বার গাছে আটকে থাকা বাতাসের বুদবুদের নমুনা পরীক্ষা করে, প্রাগৈতিহাসিক পৃথিবীর অক্সিজেনের মাত্রা নির্ধারণ করেছেন। এই আটকে থাকা

বুদবুদগুলো বলে যে, ক্রিটেসিয়াস যুগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রায় ৩৫% অক্সিজেন ছিল, যেখানে বর্তমান পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ ২১%। এজন্য, ডাইনোসররা যদি আমাদের যুগে বসবাস করত, তাহলে তাদের শ্বাস-প্রশ্বাসে অতিরিক্ত রকমের সমস্যার সৃষ্টি হত। ফলে অসুস্থতা তাদের বরাবরের মতো কাবু করে রাখতো। এই নিম্ন মাত্রার অক্সিজেন এবং একইভাবে উচ্চ মাত্রার কার্বন ডাই-অক্সাইড ডাইনোসর প্রজাতিদের মারাত্মকভাবে দুর্বল করে রাখত। সেক্ষেত্রে জুরাসিক পার্কের চলচ্চিত্রগুলোতে ডাইনোসরদের অতটা ক্ষিপ্র গতিসম্পন্ন দেখা যেতো না!


প্রাগৈতিহাসিক গণবিলুপ্তির  (Mass Extinction)  সমীক্ষা অনুযায়ী, ট্রায়াসিক যুগের শেষের দিকে অনেক ডাইনোসর প্রজাতি ব্যাপক বিলুপ্তি হতে শুরু করে। কী কী কারণে ডাইনো-প্রজাতি বিলুপ্তির পথে ছিল?

চিত্র-৩: মেক্সিকো উপসাগর তীরবর্তী ইউকাটান উপদ্বীপে ১২ কিলোমিটার চওড়া গ্রহাণুটি আঘাত করার পরপরই 

চিকশুলুব অঞ্চলের গর্তটি কেমন হতে পারে তার কাল্পনিক চিত্র।  

Credit- Detlev van Ravenswaay and Science Source


বহু বছর ধরে গবেষকদের ধারণা ছিল, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মতো কোনো ভূতাত্ত্বিক ঘটনার কারণে ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়েছিল। আধুনিক তথ্য-প্রমাণ অনুযায়ী, ডাইনোসর বিলুপ্তির কারণ হিসেবে মহাকাশ থেকে আসা এক বিরাট আকারের গ্রহাণু আছড়ে পড়াকে প্রধান কালপ্রিট হিসেবে দায়ী করা হয়।


১৯৯০ সালে ভুবিজ্ঞানী অ্যালান হিল্ডের্ব্যান্ড মেক্সিকোতে উপকুলের কাছাকাছি সাগরতলে বিশাল একটি গর্ত (Crater) খুঁজে পেলেন। প্রায় ১৮০ কিলোমিটার প্রশস্ত এই গর্তের কাছে অদ্ভুতুড়ে অভিকর্ষ বল লক্ষ করা গেল। ১২ কিলোমিটার চওড়া সেই গ্রহাণুটি আছড়ে পড়েছিল মেক্সিকো উপসাগর তীরবর্তী ইউকাটান উপদ্বীপ এলাকার চিকশুলুব অঞ্চলে। যার আঘাতে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ও নাটকীয়ভাবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল এমনকি জলবায়ু পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছিল। এটি এত জোরে পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়েছিল যে, তাতে ১৮০ কিলোমিটার ব্যাস আর ২০ কিলোমিটার গভীরতার একটি গর্ত তৈরি হয়েছিল। বিজ্ঞানীরা হিসাবনিকাশ করে গর্তটির বয়স বের করেছেন ৬৬ মিলিয়ন বছরের কিছুটা কম। এখন পর্যন্ত ডাইনোসরদের বিলুপ্তির কারণ হিসেবে এটিই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যা।


ডাইনোসর প্রজাতির জন্মের সময় পৃথিবী ছিল উষ্ণ। কিন্তু এরপর পৃথিবী শীতল হতে শুরু করে। সমুদ্রের পানির উচ্চতাও নেমে যেতে শুরু করে। এসব কারণেই ডাইনোসর বিলুপ্ত হতে শুরু করে। ডাইনোসরদের বিলুপ্তির পর পৃথিবীতে শুরু হয় স্তন্যপায়ী প্রাণীদের যুগ। ডাইনোসরের সাথে স্তন্যপায়ী প্রাণীর জন্ম অনেকটা একই সময়ে হলেও স্তন্যপায়ী প্রাণীরা পৃথিবীর শীতল পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়। গণবিলুপ্তির ঐ সময়টাতে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে টিকে থাকতে, ডাইনোসরদের মেরু অঞ্চলের ঠাণ্ডা আবহাওয়ার সাথে মানিয়ে নিতে হয়েছিল। [লেখার প্রথম অংশে আলোচনা করা হয়েছে (যেমন- ভেলোসি র‌্যাপ্টর)


গ্রহাণুর আছড়ে পড়ার সাথে, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বৃহৎ স্কেলে জলবায়ু পরিবর্তন ঘটিয়েছিল। যে পরিবর্তনের ফলে পরবর্তীতে আরও লক্ষ লক্ষ বছর ধরে পৃথিবীতে প্রাণের গ্যাপ পড়ে গিয়েছিলো। ক্রিটেসিয়াস যুগের থেকে এই একবিংশ শতাব্দীর জলবায়ু পরিস্থিতির গল্প একেবারেই ভিন্ন।

এখনকার জলবায়ু পরিস্থিতি ডাইনোসর প্রজাতিদের টিকে থাকার জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং। এখনকার যুগে ডাইনোসরদের বাঁচতে হলে, তাদেরকে তো অবশ্যই খাওয়া-দাওয়া করতে হবে। তবে জুরাসিক পার্কের মতো মুভিগুলোতে ডাইনোসরদের হিংস্র মাংসাশী জন্তু হিসাবে তুলে ধরা হয়। যেখানে দেখানো হয়, ডাইনোসররা শুধু মানুষ ধরে ধরে খাচ্ছে! কিন্তু, বাস্তবে এরকম ব্যাপার নাও ঘটাতে পারে!


অন্যান্য বন্য মাংসাশী প্রাণীর মতো, ডাইনোসররা তাদের পরিচিত শিকারকেই আক্রমণ করবে, যেখানে বেশিরভাগ শিকার হবে অন্যান্য ডাইনোসর। কিন্তু, এখন যেহেতু পৃথিবী ব্যাপী মানুষের সংখ্যা অনেক বেড়েছে এবং এর সাথে বন্য প্রাণীর সংখ্যাও হ্রাস পাচ্ছে তাই ডাইনোসরের খাবারের মেন্যুতে মানুষ থাকলে সেখানে অবাক হওয়ার কিছু নেই!


একটা ৬ টন ওজনের প্রাপ্তবয়স্ক টি-রেক্স ৮০ জন মানুষের সমান খাবার খেতে পারে। যেখানে একজন মানুষের জন্য দৈনিক বরাদ্দ ২৫০০ ক্যালরি। সোজা বাংলায় এর অর্থ হচ্ছে, একটি প্রাপ্তবয়স্ক টি-রেক্সের দিনে ১৪০ কেজি মাংস প্রয়োজন। এদিকে, তৃণভোজী ডাইনোসরদের বেঁচে থাকতে ভিন্ন রকমের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। বন উজাড় বা বনাঞ্চল সংকোচন হওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন, উন্নয়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো মানবসৃষ্ট প্রভাবের কারণে তৃণভোজী ডাইনোসররা তাদের টিকিয়ে রাখার জন্য পর্যাপ্ত খাবার পাবে না। আর এতে করে মাংসাশী ডাইনোসরেরাও খাবার সংকটে বেশিদিন বেঁচে থাকতে পারবে না।


টি.রেক্স এবং ট্রাইসেরাটপস, ক্রিটেসিয়াস যুগে (১৪৪ থেকে ৬৫ মিলিয়ন বছর আগে) পৃথিবীর বুকে চষে বেড়াত। সে সময় পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা এখনকার চেয়ে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। বিষুবীয় অঞ্চল আর উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর তাপমাত্রাতেও খুব কম পার্থক্য ছিল। সমুদ্রের গড় তাপমাত্রা ছিল ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা বর্তমানের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় সমুদ্রগুলোর সাথে তুলনা করলেও, সেই সময়ের (ক্রিটেসিয়াস) সামুদ্রিক জীবনের জন্য প্রচুর ঠান্ডা হবে। তবে ভুমিতে দাপিয়ে বেড়ানো ডাইনোসররা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এবং অর্ধ-গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলের জলবায়ুর সাথে সহজেই মানিয়ে নিতে পারবে। তবে এই যাত্রায় তাদের জন্য আরেকটি কঠিন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে। তা হলো Altitude Sickness বা উচ্চতার অসুস্থতা!


উচ্চতার অসুস্থতা আবার কী?

উচ্চতার অসুস্থতা, অ্যাকিউট মাউন্টেন সিকনেস (AMS) নামেও পরিচিত। কেউ যদি খুব তাড়াহুড়ো করে সুউচ্চ পাহাড়ে ওঠে তাহলে এমনটা ঘটতে পারে। ভুপৃষ্ঠের সমুদ্র সমতল থেকে অতিরিক্ত উচ্চতায় উঠলে বায়ুচাপ কমার সাথে সাথে অক্সিজেনের পরিমাণও হ্রাস পায়। এতে করে কারও শারীরিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে হালকা থেকে গুরুতর কিছু লক্ষণ দেখা দেবে। যেমন- মাথাব্যথা, ক্লান্তি, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট এবং অনিদ্রা।


অ্যাম্বার এবং বরফের ভিতরে আটকে থাকা বায়ুর বুদবুদ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ক্রিটেসিয়াস যুগে বায়ুমণ্ডলে ৩৫% পর্যন্ত অক্সিজেন থাকতে পারে। যেখানে এখনকার বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ ২১%। এছাড়া, ট্রায়াসিক যুগে বায়ুমণ্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব ছিল ১,০০০-২,০০০ (Parts Per Million) পিপিএম। এরপর জুরাসিক এবং ক্রিটেসিয়াস যুগে CO2 -এরঘনত্ব ৬০০-১,০০০ পিপিএম। যা বর্তমানের ৪০০ পিপিএম-এর চেয়ে অনেক অনেক বেশি।


মেসোজোয়িক মহাযুগে এই উচ্চ মাত্রার অক্সিজেন এবং উচ্চ মাত্রার কার্বন ডাই অক্সাইড জলবায়ু এবং বসবাসকারী উদ্ভিদ ও প্রাণীদের উপর ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলেছিল। কিন্তু বর্তমানের পৃথিবীতে পরিস্থিতি একেবারে বিপরীত! এখনকার এই নিম্ন মাত্রার অক্সিজেন এবং একইভাবে নিম্ন ঘনত্বের কার্বন ডাই-অক্সাইডের এই ভয়ংকর পৃথিবীতে ডাইনোসর প্রজাতিদের স্বাভাবিকভাবেই শ্বাসকষ্টে ভুগতে হবে! ব্যাপারটিকে এভাবে ব্যাখ্যা করা যায় একটি টি. রেক্স যদি ভুমিতে চষে বেড়ায় তাহলে তার মনে (অনুভুতি) হবে, সে এভারেস্টের কোনো এক বেস ক্যাম্পে আছে। নিম্ন মাত্রার অক্সিজেনের প্রভাবে, ভয়ংকর এক টি.রেক্স অসহায় এক প্রাণীর মতো জোড়ে জোড়ে নিশ্বাস ফেলবে! আশেপাশে কোনো পর্যটক থাকলে পর্যটকেরা টি. রেক্সের এরকম জোড়ে জোড়ে নিশ্বাস ফেলা দেখে ভয়ে দূরে সরে যাবে! বেচারা অসহায় টি. রেক্স। সাধারণ লোকজন বুঝবেও না যে, টি. রেক্স শ্বাসকষ্টে হাঁপাচ্ছে!


অন্যান্য প্রাণীদের মতো ডাইনোসর প্রজাতিরাও যদি আমাদের পৃথিবীতে বসবাস করতে থাকে, তাহলে এর সাথে কিছু ভয়ংকর প্রশ্নও আমাদের সামনে চলে আসে! যেমন- অন্যান্য প্রাণীদের কথা না হয় বাদই দিলাম; ডাইনোসররা যদি মানুষদের খেয়ে ফেলে তাহলে এই দায় নেবে কে?

আর, ডাইনোসরদের নিয়ন্ত্রণ করবে কে বা কারা? স্বাভাবিকভাবেই তাদেরকে জুরাসিক পার্কের মতো কোনো বিশেষ স্থানে রাখা হবে। যেখানে

বিজ্ঞানীরা তাদের নিয়ে উচ্চতর মেডিক্যাল রিসার্চ করবেন। কিন্তু তারপরও কিছু নৈতিক প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়! 


উচ্চতার অসুস্থতা আসলে কেমন?

কেউ যদি খুব তাড়াতাড়ি করে কোন উঁচু পাহাড়ে ওঠে তবে সে উচ্চতায় অসুস্থতা কী জিনিস বুঝতে পারবে! ভুপৃষ্ঠের সমুদ্র সমতল থেকে যত উপরে উঠা যায় বায়ুচাপ ততই কমতে থাকে এবং বায়ুচাপ কমার সাথে সাথে অক্সিজেনের পরিমাণও কমতে থাকে! সেজন্য শ্বাস-প্রশ্বাসেও অনেক কষ্টকর। এজন্য পর্বতারোহীদের অক্সিজেন সিলিন্ডার বহন করতে হয়। এসব কারণে সুউচ্চ পর্বতে শ্বাস-প্রশ্বাস অনেক কঠিন হয়ে পড়বে কারণ পাহাড়ের উপরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারবে না। উচ্চতার অসুস্থতাকে  Acute Mountain Sickness (AMS) ও বলা হয়।


অতিরিক্ত উচ্চতায় উঠলে অনেক সময় ফুসফুসে তরল জমা হতে থাকে যা খুবই বিপজ্জনক এবং এমনকি প্রাণঘাতীও হতে পারে। এই ব্যাপারটিকে High-Altitude Pulmonary Edema (HAPE) বলা হয়। এটি উচ্চতার অসুস্থতা থেকে মৃত্যুর সবচেয়ে সাধারণ কারণ। উচ্চতার অসুস্থতার লক্ষণগুলো হ্যাংওভারের মতো। যেমন- মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, পেশী ব্যথা, শ্বাসকষ্ট এবং বমি-বমি ভাব। কারও শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভর করে এই উচ্চতার অসুখের লক্ষণসমূহ দেখা দেবে।


ভুপৃষ্ঠের সমুদ্র সমতল থেকে সাধারণত ২,৫০০ মিটারের (৮,০০০ ফুট) উপরে উঠলে উচ্চতার অসুখের লক্ষণসমূহ দেখা দিতে শুরু করে। যত বেশি উচ্চতা, ঝুঁকি তত বেশি। প্রশ্বাসে কম অক্সিজেন পেলে শরীর দুর্বল হতে শুরু করবে। আর এই দুর্বল শরীরে অক্সিজেন গ্রহণ করতে

আবার পরিশ্রমও করতে বেশি!


উচ্চতার অসুখ থেকে রক্ষা পেতে হলে কী করতে হবে?

রেস্ট নিতে হবে। স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে না আসা পর্যন্ত বিশ্রাম নিতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে এবং অ্যালকোহল জাতীয় কিছু (এনার্জি ড্রিংক) সেবন করা যাবে না। 


তথ্যসূত্র:

1. https://www.dailymail.co.uk/sciencetech/article- HYPERLINK “https://www. dailymail.co.uk/sciencetech/article-3493197/Could-soon-CLONE-T-RexFossils-pregnant-68-million-year-old-dinosaur-contain-DNA-bring-beastlife.html”3493197 HYPERLINK “https://www.dailymail.co.uk/sciencetech/article-3493197/Could-soon-CLONE-T-Rex-Fossils-pregnant-68-millionyear-old-dinosaur-contain-DNA-bring-beast-life.html”/Could-soonCLONE-T-Rex-Fossils-pregnant- HYPERLINK “https://www.dailymail.co.uk/sciencetech/article-3493197/Could-soon-CLONE-T-Rex-Fossilspregnant-68-million-year-old-dinosaur-contain-DNA-bring-beast-life.html”68 HYPERLINK “https://www.dailymail.co.uk/sciencetech/article-3493197/Could-soon-CLONE-T-Rex-Fossils-pregnant-68-million-year-old-dinosaurcontain-DNA-bring-beast-life.html”-million-year-old-dinosaur-contain-DNAbring-beast-life.html


2.  https://thedebrief.org/could-dinosaurs-survive-in-the-modern-world-thenew-jurassic-park-movie-says-yes/


3.  https://www.sciencefocus.com/nature/could-a-dinosaur-survive-in-todaysclimate-conditions/

4.  https://www.dinosaurjungle.com/dinosaur_facts_timeline.php

5.  https://fivethirtyeight.com/features/how-do-you-feed-a-t-rex/


১ বছর

শেয়ার করুন

কপি

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগইন করুন

লগইন রেজিষ্টার